হেমতাবাদে কি পদ্ম ফুটছে? জয়ে ১০০% আশাবাদী বিজেপি প্রার্থী হরিপদ বর্মন… @PaschimbangaSambad

ভোট-পরবর্তী ব্যস্ততা, জয়ের আত্মবিশ্বাস ও হেমতাবাদের উন্নয়নের রূপরেখা— পশ্চিমবঙ্গ সংবাদের মুখোমুখি বিজেপি প্রার্থী হরিপদ বর্মন



উত্তর দিনাজপুর | হেমতাবাদ |  সামিম আক্তার | পশ্চিমবঙ্গ সংবাদ

রাজ্যজুড়ে বিধানসভা নির্বাচনের পর এখন অপেক্ষা ফল ঘোষণার। এই আবহেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, বিশ্লেষণ আর হিসাব-নিকাশ তুঙ্গে। ঠিক এমন সময় উত্তর দিনাজপুর জেলার ৩৩ নম্বর হেমতাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হরিপদ বর্মনের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হন পশ্চিমবঙ্গ সংবাদ-এর এডিটর-ইন-চিফ সামিম আক্তার। ভোট-পরবর্তী সময় কীভাবে কাটছে, ব্যক্তিগত জীবন কতটা প্রভাবিত হয়েছে, জয়ের বিষয়ে কতটা আত্মবিশ্বাসী— এমন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেন বিজেপি প্রার্থী।
ভোটের আগে দীর্ঘ প্রচারপর্বের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হরিপদ বর্মন জানান, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টানা প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। ভোটের দিন স্ট্রং রুম পর্যন্ত দায়িত্ব সামলে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ি ফেরেন। তবে ভোট মিটলেও ব্যস্ততা কমেনি। বর্তমানে কাউন্টিং সংক্রান্ত প্রস্তুতি, দলীয় সাংগঠনিক কাজ এবং কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতেই তাঁর অধিকাংশ সময় কাটছে। পাশাপাশি নিজের পেশা শিক্ষকতাতেও তিনি ফিরে গিয়েছেন এবং স্কুলের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন আগের মতোই।
ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের ভারসাম্য প্রসঙ্গে হরিপদবাবুর বক্তব্য, রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষক হিসেবেও তাঁর দায়িত্ব রয়েছে। ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো, স্কুলের কাজ এবং এরপর দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম— সব মিলিয়েই দিন কাটছে তাঁর। তাঁর কথায়, “রাজনীতি আমার দায়িত্ব, কিন্তু শিক্ষকতা আমার পরিচয় ও ভালবাসার জায়গা।”

আসন্ন ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আত্মবিশ্বাসী সুরে বিজেপি প্রার্থী বলেন, প্রচারের সময় সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, পদ্মফুলের প্রতি সমর্থন এবং বিজেপির প্রতি মানুষের আবেগ দেখে তিনি “100 শতাংশ আশাবাদী” যে হেমতাবাদে বিজেপির জয় নিশ্চিত।

উন্নয়নের প্রশ্নে তিনি হেমতাবাদকে “পিছিয়ে পড়া বিধানসভা” বলে উল্লেখ করে বলেন, এখানে দীর্ঘদিন ধরে আলাদা ব্লক, পৃথক থানা, নতুন কলেজ এবং ফায়ার ব্রিগেড কেন্দ্রের দাবি উঠছে। জয়ী হলে এই দাবিগুলিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর মতে, পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে হেমতাবাদের চেহারা বদলে যেতে পারে।

নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য থাকলেও ভোটের পর অনেক জনপ্রতিনিধিকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না— এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে হরিপদ বর্মনের জবাব ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, “আমি কোনও নেতা নই, আমি একজন সাধারণ সাংগঠনিক কর্মী এবং একজন শিক্ষক। মানুষের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা। যে কোনও সময় মানুষ আমার কাছে আসতে পারবেন।” এমনকি তিনি জানান, তাঁর বাড়ির দরজা সাধারণ মানুষের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত।

সাক্ষাৎকারের শেষে হেমতাবাদবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আগামী দিনে “পিছিয়ে পড়া হেমতাবাদ” তকমা মুছে উন্নয়নের নতুন পরিচয়ে উঠে আসুক এই বিধানসভা— এটাই তাঁর স্বপ্ন ও অঙ্গীকার।
ভোট শেষ, এখন শুধু ফল ঘোষণার অপেক্ষা। তবে ফল যাই হোক, হেমতাবাদের উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি এবং নিজের সাধারণ জীবনযাপন বজায় রাখার অঙ্গীকার— এই তিন বার্তাকেই সামনে রেখে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিজেপি প্রার্থী হরিপদ বর্মন।

রায়গঞ্জ থেকে সামিম আক্তারের রিপোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সংবাদ।।

📢 আরও আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

👉 “পশ্চিমবঙ্গ সংবাদ” এর সঙ্গে থাকুন LATEST খবরের জন্য।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন